Friday, October 20, 2017

নকশি কাথা -PAGLU-4

        <<<রুচিশীল হউন>><< ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে অন্যদের থেকে আলাদা হোন>>>       

>>> দৃষ্টি নন্দিত মনকারা ডিজাইন
>>> সম্পূর্ণ হাতে কাজ করা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নকশী কাঁথা।
>>> ফেব্রিক: কটন।
>>> ডাবল সাইজ ৭ ফিট x ৮ ফিট।
>>> চমৎকার নকশা।
>>> সময় উপযোগী উপহার।
>>> বিছানার কভার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
>>> বর্ষা ও শীতকালে ব্যবহার উপযোগী।
>>> ফ্রি হোম ডেলিভারি।
>>> আকর্ষণীয় মুলে সারাদেশে ফ্রি হোম ডেলিভারি করা হয়।
>>> স্টক সীমিত ।
>>> ডেলিভারি সময়ঃ--২--৪ দিন (কর্ম-দিবস)।
>>> প্রোডাক্ট কোডঃ---PGLU--০4।
>>> ফোন নাম্বার---ঃ01711106630
>>> ফোনে না পেলে দয়াকরে SMS করুন।
>>> দাম ঃ--------২৯৯৯ টাকা।


হাতের কাজ

হাতের কাজ

হাতের কাজ

হাতের কাজ

Thursday, October 19, 2017

নকশি কাথা -বেবি

ছোট বাচ্ছাদের জন্য বিষেশ ভাবে তৈরি ।আরাম দায়ক। জন্মদিন এর উপহার হিসাবে অতুলনীয়



>>> সম্পূর্ণ হাতে কাজ করা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নকশী কাঁথা।
>>> ফেব্রিক: কটন 
>>> চমৎকার নকশা।
>>> সময় উপযোগী উপহার।
>>> বর্ষা ও শীতকালে ব্যবহার উপযোগী।
>>> ফ্রি হোম ডেলিভারি।
>>> আকর্ষণীয় মুলে সারাদেশে ফ্রি হোম ডেলিভারি করা হয়।
>>> স্টক সীমিত ।
>>> ডেলিভারি সময়ঃ--২--৪ দিন (কর্ম-দিবস)।
>>> প্রোডাক্ট কোডঃ---Baby-.
>>> ফোন নাম্বার---ঃ ০১৭১১১০৬৬৩০
>>> ফোনে না পেলে দয়াকরে SMS করুন।
>>> দাম ঃ-------599 Taka.


Baby-1

Baby-2

Baby-2

Baby-3

Baby-3

Baby-4

Baby-3

Baby-4

নকশি কাথা-SNDR--০5

                         <<<<রুচিশীল হউন>><< ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে অন্যদের থেকে আলাদা হোন>>>

>>> দৃষ্টি নন্দিত মনকারা ডিজাইন
>>> সম্পূর্ণ হাতে কাজ করা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নকশী কাঁথা।
>>> ফেব্রিক: কটন।
>>> ডাবল সাইজ ৭ ফিট x ৮ ফিট।
>>> চমৎকার নকশা।
>>> সময় উপযোগী উপহার।
>>> বিছানার কভার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
>>> বর্ষা ও শীতকালে ব্যবহার উপযোগী।
>>> ফ্রি হোম ডেলিভারি।
>>> আকর্ষণীয় মুলে সারাদেশে ফ্রি হোম ডেলিভারি করা হয়।
>>> স্টক সীমিত ।
>>> ডেলিভারি সময়ঃ--২--৪ দিন (কর্ম-দিবস)।
>>> প্রোডাক্ট কোডঃ----SNDR--০5
>>> ফোন নাম্বার---ঃ০১৭১১১০৬৬৩০
>>> ফোনে না পেলে দয়াকরে SMS করুন।
>>> দাম ঃ--------২৭৯৯ টা






নকশি কাথা - সাদা কাপরের উপর কাজ

দয়াকরে আপনার মূল্যবান মন্তব্য কমেন্ট বক্স এ জানান


<<<<রুচিশীল হউন>><< ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে অন্যদের থেকেন নিজেকে আলাদা করুন>>>       

>>> দৃষ্টি নন্দিত মনকারা ডিজাইন
>>> সম্পূর্ণ হাতে কাজ করা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নকশী কাঁথা।
>>> ফেব্রিক: কটন।
>>> ডাবল সাইজ ৭*৫ ফিট x ৮*৫ ফিট।
>>> চমৎকার নকশা।
>>> সময় উপযোগী উপহার।
>>> বিছানার কভার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
>>> বর্ষা ও শীতকালে ব্যবহার উপযোগী।
>>> ফ্রি হোম ডেলিভারি।
>>> আকর্ষণীয় মুলে সারাদেশে ফ্রি হোম ডেলিভারি করা হয়।
>>> স্টক সীমিত ।
>>> ডেলিভারি সময়ঃ--২--৪ দিন (কর্ম-দিবস)।
>>> প্রোডাক্ট কোডঃ---KRNM--12।
>>> ফোন নাম্বার---ঃ ০১৭১১১০৬৬৩০
>>> ফোনে না পেলে দয়াকরে SMS করুন।
>>> দাম ঃ--------2499 টা








নকশি কাথা -হলুদ কালার

<<<<রুচিশীল হউন>><< ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদা করুন>>>

>>> দৃষ্টি নন্দিত মনকারা ডিজাইন
>>> সম্পূর্ণ হাতে কাজ করা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নকশী কাঁথা।
>>> ফেব্রিক: কটন।
>>> ডাবল সাইজ ৭ ফিট x ৮ ফিট।
>>> চমৎকার নকশা।
>>> সময় উপযোগী উপহার।
>>> বিছানার কভার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
>>> বর্ষা ও শীতকালে ব্যবহার উপযোগী।
>>> ফ্রি হোম ডেলিভারি।
>>> আকর্ষণীয় মুলে সারাদেশে ফ্রি হোম ডেলিভারি করা হয়।
>>> স্টক সীমিত ।
>>> ডেলিভারি সময়ঃ--২--৪ দিন (কর্ম-দিবস)।
>>> প্রোডাক্ট কোডঃ---JLK-08
>>> ফোন নাম্বার--01711106630
>>> ফোনে না পেলে দয়াকরে SMS করুন।
>>> দাম ঃ--------2499 Taka.








যশোর এর নকশি কাথা

দয়াকরে আপনার মূল্যবান মন্তব্য কমেন্ট বক্স এ জানান


<<<<রুচিশীল হউন>><< ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে অন্যদের থেকেন নিজেকে আলাদা করুন>>>       

>>> দৃষ্টি নন্দিত মনকারা ডিজাইন
>>> সম্পূর্ণ হাতে কাজ করা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নকশী কাঁথা।
>>> ফেব্রিক: কটন।
>>> ডাবল সাইজ ৭ ফিট x ৮ ফিট।
>>> চমৎকার নকশা।
>>> সময় উপযোগী উপহার।
>>> বিছানার কভার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
>>> বর্ষা ও শীতকালে ব্যবহার উপযোগী।
>>> ফ্রি হোম ডেলিভারি।
>>> আকর্ষণীয় মুলে সারাদেশে ফ্রি হোম ডেলিভারি করা হয়।
>>> স্টক সীমিত ।
>>> ডেলিভারি সময়ঃ--২--৪ দিন (কর্ম-দিবস)।
>>> প্রোডাক্ট কোডঃ---JLK--07
>>> ফোন নাম্বার---ঃ ০১৭১১১০৬৬৩০
>>> ফোনে না পেলে দয়াকরে SMS করুন।
>>> দাম ঃ--------2499 Taka.




Add caption

noksi katha

নকশী কাথা , হাতের কাজ

                         <<<<রুচিশীল হউন>><< ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে অন্যদের থেকে আলাদা হোন>>>       

>>> দৃষ্টি নন্দিত মনকারা ডিজাইন
>>> সম্পূর্ণ হাতে কাজ করা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নকশী কাঁথা।
>>> ফেব্রিক: কটন।
>>> ডাবল সাইজ ৭ ফিট x ৮ ফিট।
>>> চমৎকার নকশা 

>>> সময় উপযোগী উপহার।
>>> বিছানার কভার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
>>> বর্ষা ও শীতকালে ব্যবহার উপযোগী।
>>> ফ্রি হোম ডেলিভারি।
>>> আকর্ষণীয় মুলে সারাদেশে ফ্রি হোম ডেলিভারি করা হয়।
>>> স্টক সীমিত ।
>>> ডেলিভারি সময়ঃ--২--৪ দিন (কর্ম-দিবস)।
>>> প্রোডাক্ট কোডঃ---PKJ--10.
>>> ফোন নাম্বার---ঃ ০১৭১১১০৬৬৩০
>>> ফোনে না পেলে দয়াকরে SMS করুন।
>>> দাম ঃ--------2449 Taka.








Friday, May 27, 2016

নক্সি কাথার মাঠ


একটি বছর হইয়াছে সেই রূপাই গিয়াছে চলি,
দিনে দিনে নব আশা লয়ে সাজুরে গিয়াছে ছলি |
কাইজায় যারা গিয়াছিল গাঁয়, তারা ফিরিয়াছে বাড়ী,
শহরের জজ, মামলা হইতে সবারে দিয়াছে ছাড়ি |
স্বামীর বাড়ীতে একা মেয়ে সাজু কি করে থাকিতে পারে,
তাহার মায়ের নিকটে সকলে আনিয়া রাখিল তারে |
একটি বছর কেটেছে সাজুর একটি যুগের মত,
প্রতিদিন আসি, বুকখানি তার করিয়াছে শুধু ক্ষত |
ও-গাঁয়ে রূপার ভাঙা ঘরখানি মেঘ ও বাতাসে হায়,
খুঁটি ভেঙে আজ হামাগুড়ি দিয়ে পড়েছে পথের গায় |
প্রতি পলে পলে খসিয়া পড়িছে তাহার চালের ছানি,
তারও চেয়ে আজি জীর্ণ শীর্ণ সাজুর হৃদয়খানি |
রাত দিন দুটি ভাই বোন যেন দুখেরই বাজায় বীণ |
কৃষাণীর মেয়ে, এতটুকু বুক, এতটুকু তার প্রাণ,
কি করিয়া সহে দুনিয়া জুড়িয়া অসহ দুখের দান!
কেন বিধি তারে এত দুখ দিল, কেন, কেন, হায় কেন,
মনের-মতন কাঁদায় তাহারে “পথের কাঙালী” হেন ?
সোঁতের শেহলা ভাসে সোঁতে সোঁতে, সোঁতে সোঁতে ভাসে পানা,
দুখের সাগরে ভাসিছে তেমনি সাজুর হৃদয়খানা |
কোন্ জালুয়ার মাছ সে খেয়েছে নাহি দিয়ে তায় কড়ি,
তারি অভিশাপ ফিরেছে কি তার সকল পরাণ ভরি !
কাহার গাছের জালি কুমড়া সে ছিঁড়েছিল নিজ হাতে,
তাহারি ছোঁয়া কি লাগিয়াছে আজ তার জীবনের পাতে !
তোর দেশে বুঝি দয়া মায়া নাই, হা-রে নিদারুণ বিধি
কোন্ প্রাণে তুই কেড়ে নিয়ে গেলি তার আঁচলের নিধি |
নয়ন হইতে উড়ে গেছে হায় তার নয়নের তোতা,
যে ব্যাথারে সাজু বহিতে পারে না, আজ তা রাখিবে কোথা ?
এমনি করিয়া কাঁদিয়া সাজুর সারাটি দিবস কাটে,
আমেনে কভু একা চেয়ে রয় দীঘল গাঁয়ের বাটে |
কাঁদিয়া কাঁদিয়া সকাল যে কাটে—দুপুর কাটিয়া যায়,
সন্ধ্যার কোলে দীপ নিবু-নিবু সোনালী মেঘের নায়ে |
তবু ত আসে না ! বুকখানি সাজু নখে নখে আজ ধরে,
পারে যদি তবে ছিঁড়িয়া ফেলায় সন্ধ্যার কাল গোরে |
মেয়ের এমন দশা দেখে মার সুখ নাই কোন মনে,
রূপারে তোমরা দেখেছ কি কেউ, শুধায় সে জনে জনে |
গাঁয়ের সবাই অন্ধ হয়েছে, এত লোক হাটে যায়,
কোন দিন কিগো রূপাই তাদের চক্ষে পড়ে নি হায় !
খুব ভাল করে খোঁজে যেন তারে, বুড়ী ভাবে মনে মনে,
রূপাই কোথাও পলাইয়া আছে হয়ত হাটের কোণে |
ভাদ্র মাসেতে পাটের বেপারে কেউ কেউ যায় গাঁরষ
নানা দেশে তারা নাও বেয়ে যায় পদ্মানদীর পার |
জনে জনে বুড়ী বলে দেয়, “দেখ, যখন যখানে যাও,
রূপার তোমরা তালাস লইও, খোদার কছম খাও |”
বর্ষার শেষে আনন্দে তারা ফিরে আসে নায়ে নায়ে,
বুড়ী ডেকে কয়, “রূপারে তোমরা দেখ নাই কোন গাঁয়ে !”
বুড়ীর কথার উত্তর দিতে তারা নাহি পায় ভাষা,
কি করিয়া কহে, আর আসিবে না যে পাখি ছেড়েছে বাসা |
চৈত্র মাসেতে পশ্চিম হতে জন খাটিবার তরে,
মাথাল মাথায় বিদেশী চাষীরা সারা গাঁও ফেলে ভরে |
সাজুর মায়ে যে ডাকিয়া তাদের বসায় বাড়ির কাছে,
তামাক খাইতে হুঁকো এনে দ্যায়, জিজ্ঞাসা করে পাছে ;
“তোমরা কি কেউ রূপাই বলিয়া দেখেছ কোথাও কারে,
নিটল তাহার গঠন গাঠন, কথা কয় ভারে ভারে |”
এমনি করিয়া বলে বুড়ী কথা, তাহারা চাহিয়া রয়,—
রুপারে যে তারা দেখে নাই কোথা, কেমন করিয়া কয় !
যে গাছ ভেঙেছে ঝড়িয়া বাতাসে কেমন করিয়া হায়,
তারি ডালগুলো ভেঙে যাবে তারা কঠোর কুঠার-ঘায় ?
কেউ কেউ বলে, “তাহারি মতন দেখেছিন একজনে,
আমাদের সেই ছোট গাঁয় পথে চলে যেতে আনমনে |”
“আচ্ছা তাহারে সুধাও নি কেহ, কখন আসিবে বাড়ী,
পরদেশে সে যে কোম্ প্রাণে রয় আমার সাজুরে ছাড়ি ?”
গাঙে-পড়া-লোক যেমন করে তৃণটি আঁকড়ি ধরে,
তেমনি করিয়া চেয়ে রয় বুড়ী তাদের মুখের পরে |
মিথ্যা করেই তারা বলে, “সে যে আসিবে ভাদ্র মাসে,
খবর দিয়েছে, বুড়ী যেন আর কাঁদে না তাহার আশে |”
এত যে বেদনা তবু তারি মাঝে একটু আশার কথা,
মুহুর্তে যেন মুছাইয়া দেয় কত বরষের ব্যথা |
মেয়েরে ডাকিয়া বার বার কহে, “ভাবিস না মাগো আর,
বিদেশী চাষীরা কয়ে গেল মোর—খবর পেয়েছে তার |”
মেয়ে শুধু দুটি ভাষা-ভরা আঁখি ফিরাল মায়ের পানে ;
কত ব্যথা তার কমিল ইহাতে সেই তাহা আজ জানে |
গণিতে গণিতে শ্রাবণ কাটিল, আসিল ভাদ্র মাস,
বিরহী নারীর নয়নের জলে ভিজিল বুকের বাস |
আজকে আসিবে কালকে আসিবে, হায় নিদারুণ আশা,
ভোরের পাখির মতন শুধুই ভোরে ছেড়ে যায় বাসা |
আজকে কত না কথা লয়ে যেন বাজিছে বুকের বীনে,
সেই যে প্রথম দেখিল রূপারে বদনা-বিয়ের দিনে |
তারপর সেই হাট-ফেরা পথে তারে দেখিবার তরে,
ছল করে সাজু দাঁড়ায়ে থাকিত গাঁয়ের পথের পরে |
নানা ছুতো ধরি কত উপহার তারে যে দিত আনি,
সেই সব কথা আজ তার মনে করিতেছে কানাকানি |
সারা নদী ভরি জাল ফেলে জেলে যেমনি করিয়া টানে,
কখন উঠায়, কখন নামায়, যত লয় তার প্রাণে ;
তেমনি সে তার অতীতেরে আজি জালে জালে জড়াইয়া টানে,
যদি কোন কথা আজিকার দিনে কয়ে যায় নব-মানে |
আর যেন তার কোন কাজ নাই, অতীত আঁধার গাঙে,
ডুবারুর মত ডুবিয়া ডুবিয়া মানক মুকুতা মাঙে |
এতটুকু মান, এতটুকু স্নেহ, এতটুকু হাসি খেলা,
তারি সাথে সাজু ভাসাইতে চায় কত না সুখের ভেলা !
হায় অভাগিনী ! সে ত নাহি জানে আগে যারা ছিল ফুল,
তারাই আজিকে ভুজঙ্গ হয়ে দহিছে প্রাণের মূল |
যে বাঁশী শুনিয়া ঘুমাইত সাজু, আজি তার কথা স্মরি,
দহন নাগের গলা জড়াইয়া একা জাগে বিভাবরী |
মনে পড়ে আজ সেই শেষ দিনে রূপার বিদায় বাণী—
“মোর কথা যদি মনে পড়ে তবে পরিও সিঁদুরখানি |”
আরও মনে পড়ে, “দীন দুঃখীর যে ছাড়া ভরসা নাই,
সেই আল্লার চরণে আজিকে তোমারে সঁপিয়া যাই |”
হায় হায় পতি, তুমি ত জান না কি নিঠুর তার মন ;
সাজুর বেদনা সকলেই শোনে, শোনে না সে একজন |
গাছের পাতারা ঝড়ে পরে পথে, পশুপাখি কাঁদে বনে,
পাড়া প্রতিবেশী নিতি নিতি এসে কেঁদে যায় তারি সনে |
হায় রে বধির, তোর কানে আজ যায় না সাজুর কথা ;
কোথা গেলে সাজু জুড়াইবে এই বুক ভরা ব্যথা |
হায় হায় পতি, তুমি ত ছাড়িয়া রয়েছ দূরের দেশে,
আমার জীবন কি করে কাটিবে কয়ে যাও কাছে এসে !
দেখে যাও তুমি দেখে যাও পতি তোমার লাই-এর লতা,
পাতাগুলি তার উনিয়া পড়েছে লয়ে কি দারুণ ব্যথা |
হালের খেতেতে মন টিকিত না আধা কাজ ফেলি বাকি,
আমারে দেখিতে বাড়ি যে আসিতে করি কতরূপ ফাঁকি |
সেই মোরে ছেড়ে কি করে কাটাও দীর্ঘ বরষ মাস,
বলিতে বলিতে ব্যথার দহনে থেমে আসে যেন শ্বাস |
নক্সী-কাঁথাটি বিছাইয়া সাজু সারারাত আঁকে ছবি,
ও যেন তাহার গোপন ব্যথার বিরহিয়া এক কবি |
অনেক সুখের দুঃখের স্মৃতি ওরি বুকে আছে লেখা,
তার জীবনের ইতিহাসখানি কহিছে রেখায় রেখা |
এই কাঁথা যবে আরম্ভ করে তখন সে একদিন,
কৃষাণীর ঘরে আদরিনী মেয়ে সারা গায়ে সুখ-চিন |
স্বামী বসে তার বাঁশী বাজায়েছে, সিলাই করেছে সেজে ;
গুন গুন করে গান কভু রাঙা ঠোঁটেতে উঠেছে বেজে |
সেই কাঁথা আজো মেলিয়াছে সাজু যদিও সেদিন নাই,
সোনার স্বপন আজিকে তাহার পুড়িয়া হয়েছে ছাই |
খুব ধরে ধরে আঁকিল যে সাজু রূপার বিদায় ছবি,
খানিক যাইয়া ফিরে ফিরে আসা, আঁকিল সে তার সবি |
আঁকিল কাঁথায়—আলু থালু বেশে চাহিয়া কৃষাণ-নারী,
দেখিছে তাহার স্বামী তারে যায় জনমের মত ছাড়ি |
আঁকিতে আঁকিতে চোখে জল আসে, চাহনি যে যায় ধুয়ে,
বুকে কর হানি, কাঁথার উপরে পড়িল যে সাজু শুয়ে |
এমনি করিয়া বহুদিন যায়, মানুষে যত না সহে,
তার চেয়ে সাজু অসহ্য ব্যথা আপনার বুকে বহে |
তারপর শেষে এমনি হইল, বেদনার ঘায়ে ঘায়ে,
এমন সোনার তনুখানি তার ভাঙিল ঝরিয়া-বায়ে |
কি যে দারুণ রোগেতে ধরিল, উঠিতে পারে না আর ;
শিয়রে বসিয়া দুঃখিনী জননী মুছিল নয়ন-ধার |
হায় অভাগীর একটি মানিক ! খোদা তুমি ফিরে চাও,
এরে যদি নিবে তার আগে তুমি মায়েরে লইয়া যাও !
ফিরে চাও তুমি আল্লা রসুল ! রহমান তব নাম,
দুনিয়ায় আর কহিবে না কেহ তারে যদি হও বাম !
মেয়ে কয়, “মাগো ! তোমার বেদনা আমি সব জানি,
তার চেয়ে যেগো অসহ্য ব্যথা ভাঙে মোর বুকখানি !
সোনা মা আমার ! চক্ষু মুছিয়া কথা শোন, খাও মাথা,
ঘরের মেঝেয় মেলে ধর দেখি আমার নক্সী-কাঁথা !
একটু আমারে ধর দেখি মাগো, সূঁচ সুতা দাও হাতে,
শেষ ছবি খানা এঁকে দেখি যদি কোন সুখ হয় তাতে |”
পাণ্ডুর হাতে সূঁচ লয়ে সাজু আঁকে খুব ধীরে ধীরে,
আঁকিয়া আঁকিয়া আঁখিজল মুছে দেখে কত ফিরে ফিরে |
কাঁথার উপরে আঁকিল যে সাজু তাহার কবরখানি,
তারি কাছে এক গেঁয়ো রাখালের ছবিখানি দিল টানি ;
রাত আন্ধার কবরের পাশে বসি বিরহী বেশে,
অঝোরে বাজায় বাঁশের বাঁশীটি বুক যায় জলে ভেসে |
মনের মতন আঁকি এই ছবি দেখে বার বার করি,
দুটি পোড়া চোখ বারবার শুধু অশ্রুতে উঠে ভরি |
দেখিয়া দেখিয়া ক্লান্ত হইয়া কহিল মায়েরে ডাকি,
“সোনা মা আমার! সত্যিই যদি তোরে দিয়ে যাই ফাঁকি ;
এই কাঁথাখানি বিছাইয়া দিও আমার কবর পরে,
ভোরের শিশির কাঁদিয়া কাঁদিয়া এরি বুকে যাবে ঝরে !
সে যদি গো আর ফিরে আসে কভু, তার নয়নের জল,
জানি জানি মোর কবরের মাটি ভিজাইবে অবিরল |
হয়ত আমার কবরের ঘুম ভেঙে যাবে মাগো তাতে,
হয়ত তাহারে কাঁদাইতে আমি জাগিব অনেক রাতে |
এ ব্যথা সে মাগো কেমনে সহিবে, বোলো তারে ভালো করে,
তার আঁখি জল ফেলে যেন এই নক্সী-কাঁথার পরে |
মোর যত ব্যথা, মোর যত কাঁদা এরি বুকে লিখে যাই,
আমি গেলে মোর কবরের গায়ে এরে মেলে দিও তাই !
মোর ব্যথা সাথে তার ব্যথাখানি দেখে যেন মিল করে,
জনমের মত সব কাঁদা আমি লিখে গেনু কাঁথা ভরে |”
বলিতে বলিতে আর যে পারে না, জড়াইয়া আসে কথা,
অচেতন হয়ে পড়িল যে সাজু লয়ে কি দারুণ ব্যথা |
কানের কাছেতে মুখ লয়ে মাতা ডাক ছাড়ি কেঁদে কয়,
“সাজু সাজু ! তুই মোরে ছেড়ে যাবি এই তোর মনে লয় ?”
“আল্লা রসুল ! আল্লা রসুল !” বুড়ী বলে হাত তুলে,
“দীন দুঃখীর শেষ কান্না এ, আজিকে যেয়ো না ভুলে !”
দুই হাতে বুড়ী জড়াইতে চায় আঁধার রাতের কালি,
উতলা বাতাস ধীরে ধীরে বয়ে যায়, সব খালি ! সব খালি !!
“সোনা সাজুরে, মুখ তুলে চাও, বলে যাও আজ মোরে,
তোমারে ছাড়িয়া কি করে যে দিন কাটিবে একেলা ঘরে !”
দুখিনী মায়ের কান্নায় আজি খোদার আরশ কাঁপে,
রাতের আঁধার জড়াজড়ি করে উতল হাওয়ার দাপে |

Monday, May 23, 2016

নকশির পাড়

পাড়

উপর থেকে: মালা পাড়, মই পাড়, গাট পাড়, চিক পাড়, নাকের দুল পাড়, মাছ পাড়, পাঁচ পাড়, বাইশা পাড়, আনাজ পাড়
পাড়ের নকশা উপর থেকে:ধানের শীষ পাড়, বিছে পাড়, মটর পাড়, চোক, বেকি পাড়, তাবিজ পাড়
পাড় হলো কাঁথার সীমানার দিকের অংশ। বেশিরভাগ নকশি কাঁথার পাড় আছে। কোন কোন ক্ষেত্রে একটি শাড়ীর পাড়কেই কাঁথার পাড় বানানো হয়, কখনো নকশা সেলাই করে পাড় বানানো হয়। সাধারণ পাড় গুলো হলোঃ[২২]
উপর থেকে: শামুক পাড়, চোক পাড়, অনিয়ত পাড়, অন্যান্য পাড়, ঢেউ পাড়, নক্ষত্র পাড়

  • ধানের শীষ অথবা খেজুর চারি পাড়
  • বিছে পাড়
  • বেকি পাড়
  • বরফি পাড়
  • চোক পাড়
  • তাবিজ পাড়
  • মালা পাড়
  • মই পাড়
  • গাট পাড়
  • চিক পাড়
  • নোলক পাড়
  • মাছ পাড়
  • পাঁচ পাড়
  • বাইশা পাড়
  • আনাজ পাড়
  • শামুক পাড়
  • অনিয়ত পাড়
  • গ্রেফি পাড়

নকশি কাঁথার ইতিহাস সর্ম্পকে জানুনঃ

নকশি কাঁথার ইতিহাস সর্ম্পকে জানুনঃ
নকশি কাঁথা হলো সাধারণ কাঁথার উপর নানা ধরণের নকশা করে বানানো বিশেষ প্রকারের কাঁথা। নকশি কাঁথা শত শত বছরের পুরনো বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটা অংশ। [১][২][৩] নকশি কাঁথা বাংলাদেশের লোকশিল্পের একটা অংশ। সাধারণত পুরাতন কাপড়ের পাড় থেকে সুতা তুলে অথবা তাঁতীদের থেকে নীল, লাল, হলুদ প্রভৃতি সুতা কিনে এনে কাপড় সেলাই করা হয়। [৪] ঘরের মেঝেতে পা ফেলে পায়ের আঙ্গুলের সঙ্গে কাপড়ের পাড় আটকিয়ে সূতা খোলা হয়। এই সূতা পরবর্তীতে ব্যবহারের জন্য রেখে দেয়া হয়। সাধারণ কাঁথা সেলাইয়ের পর এর উপর মনের মাধুরী মিশিয়ে ফুঁটিয়ে তোলা হয় বিভিন্ন নঁকশা যার মধ্যে থাকে ফুল, লতা, পাতা ইত্যাদি। পুরো বাংলাদেশেই নকশি কাঁথা তৈরি হয়, তবে ময়মনসিংহ, রাজশাহী, ফরিদপুর ও যশোর নকশি কাঁথার জন্য বিখ্যাত।
নকশি কাঁথা শব্দের উৎস

কাঁথা শব্দটির কোন উৎস স্পষ্টভাবে জানা যায় নি। [৫] সঠিকভাবে জানা না গেলেও ধারণা করা হয় কাঁথা শব্দটি পূর্বে উচ্চারিত হত "খেতা" বলে।[৬] বাংলায় ধানের ক্ষেতকে অনেক সময় "খেত" বলা হয়। নিয়াজ জামানের মতে, কাঁথা শব্দটি উৎপত্তি হয়েছে সংস্কৃতি শব্দ "কঁথা" হতে। "কঁথা" শব্দটির বাংলা হলো ত্যানা। বা কাপড়ের টুকরা।[৭]
অন্যান্য লোকশিল্পের মতো কাঁথার উপর দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিস, আবহাওয়া, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক প্রভাব আছে।[৮] সম্ভবত প্রথমদিকে কাঁথা ছিল জোড়া তালি দেওয়া কাপড়। পরবর্তীতে এটি থেকেই নকশি কাঁথার আবির্ভাব। [৯]
সাহিত্য
পাঁচশ বছর আগে কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত শ্রী শ্রী চৈতন্য চরিতামৃত বইয়ে কাঁথার কথা সবার প্রথম পাওয়া যায়। পল্লীকবি জসীম উদ্ দীন একটি বিখ্যাত কাব্য গ্রন্থ নকশি কাঁথার মাঠ[১০]

নির্মাণশৈলী

কাছে থেকে দেখা রাজশাহীর কাঁথা। বাম ও নীচের দিক জুড়ে কাঁথার পাড় দেখা যাচ্ছে। কাঁথার জমিনে সাধারণ কাঁথা ফোঁড়ে সাদা সুতা দিয়ে তরঙ্গ আকারে সেলাই দেয়া হয়েছে।
গ্রামাঞ্চলের নারীরা পাতলা কাপড়, প্রধানত পুরানো কাপড় স্তরে স্তরে সজ্জিত করে সেলাই করে কাঁথা তৈরি করে থাকেন। কাঁথা মিতব্যয়ীতার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ, এখানে একাধিক পুরানো জিনিস একত্রিত করে নতুন একটি প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করা হয়। কাঁথা তৈরির কাজে পুরানো শাড়ি, লুঙ্গি, ধুতি ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী কাঁথার পুরুত্ব কম বা বেশী হয়। পুরুত্ব অনুসারে তিন থেকে সাতটি শাড়ি স্তরে স্তরে সাজিয়ে নিয়ে স্তরগুলোকে সেলাইয়ের মাধ্যমে জুড়ে দিয়ে কাঁথা তৈরি করা হয়। সাধারণ বা কাঁথাফোঁড়ে তরঙ্গ আকারে সেলাই দিয়ে শাড়ীর স্তরগুলোকে জুড়ে দেয়া হয়। বিভিন্ন রঙের পুরানো কাপড় স্তরীভূত করা থাকে বলে কাঁথাগুলো দেখতে বাহারী রঙের হয়। সাধারণত শাড়ীর রঙ্গীন পাড় থেকে তোলা সুতা দিয়ে কাঁথা সেলাই করা হয় এবং শাড়ীর পাড়ের অনুকরণে কাঁথাতে নকশা করা হয়। তবে কোন কোন অঞ্চলে (প্রধানত রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকায়) কাপড় বোনার সুতা দিয়েও কাঁথাতে নকশা করা হয়ে থাকে[১১]। সাধারণ কাঁথা কয়েক পাল্লা কাপড় কাঁথাফোঁড়ে সেলাই করা হলেও এই ফোঁড় দেয়ার নৈপুণ্যের গুণে এতেই বিচিত্র বর্ণের নকশা, বর্ণিল তরঙ্গ ও বয়নভঙ্গির প্রকাশ ঘটে। নকশার সাথে মানানোর জন্য বা নতুন নকশার জন্য কাঁথার ফোঁড় ছোট বা বড় করা হয় অর্থাৎ ফোঁড়ের দৈর্ঘ্য ছোট-বড় করে বৈচিত্র্য আনা হয়। উনিশ শতকের কিছু কাঁথায় কাঁথাফোঁড়ের উদ্ভাবনী প্রয়োগকে কুশলতার সাথে ব্যবহার করার ফলে উজ্জ্বল চিত্রযুক্ত নকশা দেখা যায়[১২]। কাঁথাফোঁড়ের বৈচিত্র্য আছে এবং সেই অনুযায়ী এর দুটি নাম আছেঃ পাটি বা চাটাই ফোঁড় এবং কাইত্যা ফোঁড়[১৩]
বেশিরভাগ গ্রামের নারী এই শিল্পে দক্ষ। সাধারণত গ্রামের মহিলারা তাদের অবসর সময় নকশি কাঁথা সেলাই করে থাকেন। এক একটি কাঁথা সেলাই করতে অনেক সময়, এমনকি ১ বছর সময়ও লেগে যায়। নতুন জামাইকে বা নাদ বউকে উপহার দেয়ার জন্য নানী-দাদীরা নকশি কাঁথা সেলাই করে থাকেন। এক একটি কাঁথা সেলাইয়ের পিছনে অনেক হাসি-কান্নার কাহিনী থাকে। বিকেল বেলা বা রাতের খাবারের পর মহিলারা একসাথে বসে গল্প করতে করতে এক একটি কাঁথা সেলাই করেন। তাই বলা হয় নকশি কাঁথা এক একজনের মনের কথা বলে। এটি মূলত বর্ষাকালে সেলাই করা হয়। একটা প্রমাণ মাপের কাঁথা তৈরিতে ৫ থেকে ৭ টা শাড়ী দরকার হয়। আজকাল পুরাতন সামগ্রীর বদলে সূতির কাপর ব্যবহার করা হয়। ইদানীং কাঁথা তৈরিতে পুরাতন কাপড়ের ব্যবহার কমে গেছে।
মূলত নকশা করার পূর্বে কোন কিছু দিয়ে এঁকে নেওয়া হয়। তারপর সুঁই-সুতা দিয়ে ওই আঁকা বরাবর সেলাই করা হয়। কাঁথায় সাধারণত মধ্যের অংশের নকশা আগে করা হয় এবং ধীরে ধীরে চারপাশের নকশা করা হয়। আগে কিছু কাঁথার নকশা আঁকানোর জন্য কাঠের ব্লক ব্যবহার করা হত, এখন ট্রেসিং পেপার ব্যবহার করা হয়।

ধরন

নকশি কাঁথা সেলাইয়ের কোনো নির্দিষ্ট নকশা নেই। যিনি সেলাই করেন তাঁর মনে যা আসে তা-ই তিনি সেলাই করে যান। বলা যায় এটি হচ্ছে মনের ডাইরি। সূর্য, চাঁদ, গাছ, পাখি, মাছ, ফল, মানুষ, ময়ূরসহ বিভিন্ন নকশা করা হয় নকশি কাঁথায়। তবে সেলাইয়ের ধরন অনুযায়ী কাঁথাগুলো নিম্নলিখিত প্রকারে ভাগ করা হয়েছে[১৪]:

চলমান সেলাই

চলমান সেলাই কাঁথাই হলো মূল দেশীয় কাঁথা। এটিকে আবার নকশি ও পাড়তোলা দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

লহরী কাঁথা

পারস্য শব্দ লহর থেকে লহরী কাঁথা নামের উদ্ভব। লহর মানে হলো ঢেউ। সাধারণত রাজশাহীতে এই কাঁথা বিখ্যাত। এই কাঁথা আবার সোজা, কেউটের খুপি, বরফি অথবা তারা (চারচালা, আটচালা অথবা বড়চালা) ইত্যাদিতে বিভক্ত।

আনারসি

আনরসি কাঁথা চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও যশোরে পাওয়া যায়। আনারস টান, আনারস টাইল, আনারস ঝুমকা ও আনারস লহরী এর বিভিন্ন প্রকারভেদ।

বাঁকা সেলাই

এই কাঁথা সবার প্রথম তৈরি হয় ব্রিটিশ আমলে।[১৫] সাধারণত এই কাঁথা বাঁকা সেলাইয়ের মাধ্যমে তৈরি হয়।

সুজনি কাঁথা

এটি শুধু রাজশাহী এলাকায় পাওয়া যায়। সাধারণত এই কাঁথায় ঢেউ খেলানো ফুল ও লতাপাতার নকশা থাকে।

সেলাই

প্রথম দিকে শুধু চলমান সেলাই কাঁথা প্রচলিত ছিল। এই ধরণের শিলাইকে ফোড় বলা হয়। [১৬] বর্তমানে চাটাই সেলাই, কাইত্যা সেলাই, যশুরে সেলাই, রিফু সেলাই, কাশ্মীরি সেলাই, শর সেলাই, ইত্যাদি সেলাই দিয়ে কাঁথা তৈরি হয়। মাঝে মধ্যে হেরিংবোন সেলাই, সাটিন সেলাই, ব্যাক সেলাই ও ক্রস সেলাই ব্যবহার করা হয়।[১৭]

ধরন

কাঁথা সাধারণত লেপের মতো মুড়ি দিয়ে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ধরণের কাঁথা গুলো হলোঃ[১৮]
  • লেপ-কাঁথা - আকারে বড় ও মোটা হয়।
  • শুজনি কাঁথা - লেপ কাঁথার মত বড় আকারের, তবে এই কাঁথা পাতলা হয়।
  • রূমাল কাঁথা - সাধারণত এক বর্গফুট আকারের কাঁথা।
  • আসন কাঁথা - বসার কাজে ব্যবহৃত হয়।
  • বস্তানি বা গাত্রি - ভারী ও মূল্যবান জিনিসপত্র এবং কাপড় চোপড় ঢেকে রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়।
  • আর্শিলতা - আর্শি (আরশি) বা আয়না, চিরুনি ইত্যাদি ঢেকে রাখার কাজে ব্যবহার হয়।
  • দস্তরখান - খাবার সময় মেঝেতে পেতে তার উপরে খাবার দাবার ও বাসনপত্র রাখা হয়।
  • গিলাফ - খাম আকারের এই কাঁথার মধ্যে কোরআন শরীফ রাখা হয়।

নকশা

নকশি কাঁথার নকশাগুলোতে ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতির গভীর প্রভাব রয়েছে। যদিও কোন নির্দিষ্ট নিয়ম মানা হয় না, তবে ধরে নেওয়া হয় প্রত্যেকটা ভালো সেলাইকৃত নকশি কাঁথার একটি কেন্দ্র থাকবে। বেশিরভাগ কাঁথার কেন্দ্র হলো পদ্ম ফুল এবং পদ্ম ফুলের আশে পাশে নানা রকম আঁকাবাঁকা লতার নকশা থাকে। কখনো শাড়ীর পাড় দিয়ে সীমানা তৈরি করা হয়। নকশাতে ফুল, পাতা, পাখি মাছ, প্রাণী, রান্না আসবাব, এমনকি টয়লেট সামগ্রীও থাকতে পারে। বেশীর ভাগ কাঁথার প্রাথমিক কিছু নকশা একই রকম হলেও দুইটি কাঁথা একই রকম হয় না। সাধারণত কাঁথাতে একই নকশা বারবার ব্যবহৃত হয়। উল্লেখযোগ্য নকশাগুলো হলোঃ

পদ্ম নকশা

পদ্ম নকশা
পদ্ম নকশা নকশি কাঁথাগুলোতে সবচেয়ে বেশী পাওয়া যায়। পদ্ম ফুল হিন্দুধর্মের দেবদেবীর সাথে যুক্ত, এই জন্যও এটি বেশ জনপ্রিয়। পদ্মফুল হলো স্বর্গীয় আসন। এটা অবশ্য মহাজাগতিক মিলন ও নারীর প্রয়োজনীয়তাকেও বোঝায়। পদ্ম শাশ্বত আদেশ এবং আকাশ, মাটি ও পানির ঐক্য হিসেবেও মূর্ত। এটি জলের জীবনদায়ক ক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব করে এবং এছাড়াও পাপড়ির খোলা ও বন্ধ করা অবস্থাকে সূর্যের সাথে তুলনা করা হয়। এটি পবিত্রতার প্রতীক। এটি ধনসম্পদের দেবী লক্ষ্মীর প্রতীক। অষ্টদল থেকে শুরু করে শতদল বিভিন্ন ধরণের পদ্ম নকশা রয়েছে। পুরাতন প্রায় প্রত্যেকটা কাঁথাতে মাঝখানে একটি ফুটন্ত পদ্ম দেখতে পাওয়া যেত।

সূর্য নকশা

এই নকশা পদ্ম নকশার কাছাকাছি নকশা। কখনো কখনো এই দুই নকশা কাঁথার কেন্দ্রে একসাথে দেখা যায়। এটি সূর্যের জীবনদায়ক ক্ষমতার প্রকাশ করে। সূর্য হিন্দুদের ধর্মীয় ও বিবাহ উভয় আচারেই গুরত্ব বহন করে।

চন্দ্র নকশা

চন্দ্র নকশা মুসলমান ধর্মীয় প্রভাব রয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় নক্ষত্র সহযোগে একটি অর্ধচন্দ্রাকার নকশা। এই নকশা মূলত জায়নামাজ কাঁথায় দেখতে পাওয়া যায়।

চাকা নকশা

সাধারণত চাকা নকশা হিন্দু ও বৌদ্ধ উভয়েরই ভারতীয় কলার প্রতীক। এটি আদেশের প্রতীক। এটি অবশ্য বিশ্বকেও প্রতিনিধিত্ব করে। যদিও বেশীর ভাগ কাঁথা নির্মাতা চাকার গুরুত্ব জানেনা, তবুও এটি বেশ জনপ্রিয়। এটি চাটাই ফোর এর তুলনায় সহজ। পূর্বে এটি বর্ক রেখা বেষ্টিত হলেও বর্তমানে এটি

স্বস্তিকা নকশা

প্রাণী, মাছ, প্রজাপতি, বৃক্ষ ও মানুষের নকশা অঙ্কিত সমসাময়িক নকশি কাঁথা(দেয়ালিকা হিসেবে ব্যবহৃত)
সংস্কৃতিতে সু অস্তি মানে হলো এটি ভাল। এই নকশা সিন্ধু সভ্যতার সমসাময়িক। এটি ভালো ভাগ্যের প্রতীক। এটি মিছরি অথবা গোলক ধাঁধা হিসেবেও পরিচিত। সময়ের সাথে, মহেঞ্জোদাড়ো আমলের সোজা রেখা সম্বলিত স্বস্তিকার চেয়ে বক্ররেখা বেষ্টিত স্বস্তিকা এখন বেশি ব্যবহৃত হয়। হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন প্রত্যেকটা ধর্মে এই প্রতীকের গুরুত্ব রয়েছে।

জীবনবৃক্ষ নকশা

কালকা নকশা নিকট দৃশ্য
সিন্ধু সভত্যার সময় থেকে ভারতের শিল্প-সংস্কৃতিতে এই নকশার প্রভাব রয়েছে। মনে হয় যে, সিন্ধু সভ্যতার মানুষেরা পিপুল গাছকে জীবনবৃক্ষ হিসেবে ধারণা করত... এর মধ্যে দিয়ে দেবতা তার সৃষ্টির শক্তি প্রকাশ করছে।[১৯] বৌদ্ধ আমলেও এই বিশ্বাস প্রচলিত ছিল। পিপল বৌদ্ধদের নিকট পবিত্র বৃক্ষ, কেননা বুদ্ধ এই গাছের ছায়াই বসেই বোধিপ্রাপ্ত হন। এটি প্রকৃতির সৃষ্টির ক্ষমতা প্রতিফলিত করে এবং বাংলাদেশে অনেক জনপ্রিয়। আঙ্গুরগাছ ও লতাপাতার কাঁথার নকশায় যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে এবং এতে জীবন বৃক্ষের মতো একই রকম প্রতীক বহন করে। পান পাতার লহরি রাজশাহীতে অনেক জনপ্রিয়।

কালকা নকশা


মুঘল আমল থেকে আজ পর্যন্ত এই নকশা ব্যবহার করা হয়।[২০] কালকা নকশার উৎপত্তি পারস্যে ও কাশ্মীর এবং এটি বর্তমানে উপমহাদেশের অবিচ্ছেদ্য নকশা।[২১]

Sunday, May 22, 2016

নকশি কাঁথা (হাতের কাজের)।



            <<<<রুচিশীল হউন>><< ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদা করুন>>>       

>>> দৃষ্টি নন্দিত মনকারা ডিজাইন






নক্সি কাথা


>>> সম্পূর্ণ হাতে কাজ করা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নকশী কাঁথা।
>>> ফেব্রিক: কটন।
>>> ডাবল সাইজ ৭ ফিট x ৮ ফিট।
>>> চমৎকার নকশা।
>>> সময় উপযোগী উপহার।
>>> বিছানার কভার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
>>> বর্ষা ও শীতকালে ব্যবহার উপযোগী।
>>> ফ্রি হোম ডেলিভারি।
>>> আকর্ষণীয় মুলে সারাদেশে ফ্রি হোম ডেলিভারি করা হয়।
>>> স্টক সীমিত ।
>>> ডেলিভারি সময়ঃ--২--৪ দিন (কর্ম-দিবস)।
>>> প্রোডাক্ট কোডঃ---PGLU--০3।
>>> ফোন নাম্বার---ঃ ০১৭১১১০৬৬৩০
>>> ফোনে না পেলে দয়াকরে SMS করুন।
>>> দাম ঃ--------৩১৯৯ টাকা।

নকশি কাথা (হাতের কাজের)

দয়াকরে আপনার মূল্যবান মন্তব্য কমেন্ট বক্স এ জানান


<<<<রুচিশীল হউন>><< ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে অন্যদের থেকে আলাদা হোন>>>       

>>> দৃষ্টি নন্দিত মনকারা ডিজাইন
>>> বিছানার কভার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
>>> বর্ষা ও শীতকালে ব্যবহার উপযোগী।
>>> ফ্রি হোম ডেলিভারি।
>>> আকর্ষণীয় মুলে সারাদেশে ফ্রি হোম ডেলিভারি করা হয়।
>>> স্টক সীমিত ।
>>> ডেলিভারি সময়ঃ--২--৪ দিন (কর্ম-দিবস)।
>>> প্রোডাক্ট কোডঃ--HK---০2.
>>> ফোন নাম্বার---ঃ +৮৮০১৭১১১০৬৬৩০
>>> ফোনে না পেলে দয়াকরে SMS করুন।
>>> দাম ঃ--------৩২৯৯্টাকা

নকশি কাথা

নকশি কাথা

নকশি কাথা

নকশি কাথা